দেশের পাঁচটি বিভাগে নির্মাণাধীন ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী ছয় মাসের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী Sardar Md. Sakhawat Hossain। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি।
আজ বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, Khulna, Barishal, Rangpur, Rajshahi ও Cumilla—এই পাঁচ বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। হাসপাতালগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রতিটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতালগুলো চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে প্রায় ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির জন্য সরকার কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের আবাসন–সংকট নিরসনে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে।
এ ছাড়া Mitford Hospital–এর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করে নতুন হাসপাতাল অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চীনের অর্থায়নে যৌথ উদ্যোগে দেশের পাঁচটি বড় শহরে এক হাজার শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত নারী হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো, জনবল ও সেবার মান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!