যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার ২ আষাঢ় ১৪৩৩

জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ AM

১৪
জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত বলেছেন, শুধু হাসপাতাল নির্মাণ, সরকারি উদ্যোগ বা চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গুসহ জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ের অনেক কর্মসূচি সফল হয়েছে। হামের টিকাদান কর্মসূচির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল জনগণের অংশগ্রহণের কারণেই। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও একই ধরনের সামাজিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিক যদি ডেঙ্গু প্রতিরোধকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং অন্যদের সচেতন করেন, তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সুস্থ জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয় উল্লেখ করে ড. এম. এ. মুহিত বলেন, উন্নয়নের প্রকৃত সুফল তখনই নিশ্চিত হয়, যখন তা মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ডিএনসিসির উদ্যোগে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।

সোসাইটিভিত্তিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি আবাসিক এলাকা ও সোসাইটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তবে কেউ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ইমামদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হবে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী তিন মাসের একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় মশক নিধনের পাশাপাশি ব্যাপক প্রচারণা, সচেতনতামূলক সভা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, কোরবানির ঈদে নগরবাসী ও বিভিন্ন সোসাইটির সহযোগিতায় সফলভাবে বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা পেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কারণ এসব স্থানেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আগামী তিন মাস বাসাবাড়িতে বিশেষ ক্যাম্পেইন, সচেতনতামূলক সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে একটি র‌্যালি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক থেকে শুরু হয়ে গুলশান-২-এর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, ডিএনসিসি প্রশাসক, বিভিন্ন সোসাইটির প্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুলসংখ্যক নগরবাসী অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!