যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার ২ আষাঢ় ১৪৩৩

পেট ফাঁপা? যে অভ্যাসগুলো বদলানো জরুরি

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৬ AM

৮০
পেট ফাঁপা? যে অভ্যাসগুলো বদলানো জরুরি

পেট ফাঁপা? যে অভ্যাসগুলো বদলানো জরুরি

 

বেশি কিছু না খেয়েও কি হঠাৎ পেট ফুলে যায়, টানটান লাগে বা অস্বস্তি হয়? আধুনিক জীবনযাপনে পেট ফাঁপা এখন খুবই পরিচিত এক হজমজনিত সমস্যা। মাঝেমধ্যে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত অস্বস্তি জানিয়ে দেয়—আপনার প্রতিদিনের কোনো অভ্যাসের সঙ্গে শরীর ঠিক মানিয়ে নিতে পারছে না।

অনেকে মনে করেন, শুধু ভারী বা তেল–চর্বিযুক্ত খাবারই পেট ফাঁপার কারণ। বাস্তবে চাপ, খাওয়ার গতি, খাদ্যসংমিশ্রণ কিংবা কিছু ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবারও হতে পারে এর পেছনের নীরব কারণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক সম্ভাব্য কারণগুলো—

খুব দ্রুত খাওয়া

খাওয়া শেষ করতে যদি ১০ মিনিটও না লাগে, তবে বুঝতে হবে আপনি তাড়াহুড়ো করছেন। দ্রুত খাওয়ার সময় খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত বাতাস পেটে ঢুকে পড়ে। ঠিকমতো চিবানো না হলে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফল—গ্যাস, অস্বস্তি ও পেট ফাঁপা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া, প্রতিটি কামড় ভালোভাবে গিলে নেওয়া এবং খাওয়ার সময় কথা কম বলা।

স্বাস্থ্যকর খাবারও হতে পারে কারণ

মটরশুটি, ব্রকলি, বাঁধাকপি, মসুর ডাল—এসব খাবার পুষ্টিকর এবং ফাইবারসমৃদ্ধ। তবে এগুলোতে থাকা গাঁজনযোগ্য কার্বোহাইড্রেট অন্ত্রে গ্যাস তৈরি করতে পারে। হঠাৎ করে বেশি ফাইবার খেলে পেট ফাঁপা বাড়তে পারে।
সমাধান হলো ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় ফাইবার বাড়ানো। এতে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া নতুন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

দুগ্ধজাত খাবারে সংবেদনশীলতা

খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর যদি পেট ফুলে যায়, তাহলে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দুধ, পনির, আইসক্রিম—এসব খাবার অনেকের শরীরে ঠিকমতো হজম হয় না।
এক সপ্তাহ দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে লক্ষ করুন, উপসর্গ কমে কি না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কৃত্রিম মিষ্টি ও কোমল পানীয়

কার্বনেটেড পানীয়তে থাকা গ্যাস সরাসরি পেটে জমে অস্বস্তি বাড়ায়। সরবিটল বা জাইলিটলের মতো কৃত্রিম মিষ্টিও সহজে হজম হয় না। ফলে গ্যাস ও পেট ফাঁপা বাড়তে পারে।
এসবের বদলে সাধারণ পানি বা ভেষজ চা বেছে নিন। উপকার মিলবে দ্রুত।

হরমোনের ওঠানামা

অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের আগে পেট ফাঁপার প্রবণতা বেড়ে যায়। হরমোনের পরিবর্তনে শরীরে পানি জমে থাকে এবং হজম কিছুটা ধীর হয়।
নিজের মাসিক চক্র অনুযায়ী উপসর্গ লক্ষ করুন। সব সমস্যার জন্য খাবারকে দায়ী না করে প্যাটার্ন বোঝার চেষ্টা করুন।

চাপ ও উদ্বেগ

মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। মানসিক চাপ বাড়লে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। অন্ত্রে খাবার বেশি সময় থাকলে গ্যাস তৈরি হয়।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও সচেতনভাবে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস পেট ফাঁপা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!