যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার ২ আষাঢ় ১৪৩৩

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পরিকল্পনা

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ AM

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পরিকল্পনা

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দেশীয় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০ খাতের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রাখা হয়েছে। এ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সরকার বলছে, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে নতুন করে ১ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯ হাজার ১৫৪ কিলোমিটার বিতরণ লাইন এবং ৯০০ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা হবে। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ এবং বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতকে উৎসাহিত করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ও কর রেয়াত সুবিধা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অগভীর সমুদ্রে ৯টি এবং গভীর সমুদ্রে ১৫টি ব্লক আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বাপেক্সের মাধ্যমে স্থল ও সমুদ্রে ব্যাপক জরিপ এবং নতুন কূপ খননের কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৭-২৮ মেয়াদে ৬৯টি নতুন কূপ খনন এবং ৩১টি কূপে পুনঃউৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন ড্রিলিং রিগ কেনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মহেশখালীতে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সরকার বলছে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, দেশীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে একটি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!