শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক শিক্ষার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমের আওতায় চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বৃহৎ পরিসরে সাংস্কৃতিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জাতীয় পর্যায়ের আন্তঃপিটিআই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা–২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য সাংস্কৃতিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গান, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিশুদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে। সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দূরে রাখা যাবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা–ভিশন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যারা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হবে।
শিক্ষকতার মর্যাদার বিষয়েও কথা বলেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকতাকে একটি সম্মানজনক ও আকর্ষণীয় পেশায় পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষে যিনি পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, তাঁকে কেবল ‘সহকারী’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; তিনি একজন শিক্ষক। দায়িত্ব ও অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন বিষয়ে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এর কার্যকর সংযুক্তি সময়ের দাবি।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!