৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ছবিঃ সংগৃহীত
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই স্পেকট্রামের কার্যকর ব্যবহার শহর ও গ্রামাঞ্চলে উচ্চমানের নেটওয়ার্ক সংযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হবে।
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, উন্নত নেটওয়ার্ক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের সব অঞ্চলের মানুষকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে।
তিনি বলেন, “শহর ও গ্রামে মানসম্মত নেটওয়ার্ক সংযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে এবং জনগণ আরও সহজে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের ব্যবহার দেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলবে। এই ব্যান্ডের মাধ্যমে বিস্তৃত এলাকায় উন্নত নেটওয়ার্ক কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা সবার জন্য ডিজিটাল সেবার সমান সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। নতুন স্পেকট্রাম ব্যবহারের ফলে গ্রাহকরা আরও উন্নত সেবা পাবেন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, নতুন এই স্পেকট্রাম ফোরজি নেটওয়ার্কের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এর ফলে উচ্চগতির ডেটা সেবা, উন্নত নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স এবং কম ল্যাটেন্সি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড শুধু বর্তমান সেবার মান উন্নয়নেই নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং অন্যান্য উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য এটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।”
ইয়াসির আজমান আরও জানান, নতুন স্পেকট্রাম চালুর ফলে গ্রাহকরা আরও স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উন্নত ডিজিটাল সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের অন্যতম সুবিধা হলো এর সিগন্যাল তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং ভবনের ভেতরেও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম। ফলে কম সংখ্যক টাওয়ার ব্যবহার করেও বৃহৎ এলাকায় নেটওয়ার্ক সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।
টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এস/এন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!